Jibon“জীবন” সম্পর্কে:

পার্বত্যাঞ্চলের সর্বপ্রথম অনলাইন ব্লাড ব্যাংক Jibon“জীবন”৷ “Human & Humanity” এই সংকল্পকে ধারণ করে ১১ নভেম্বর ,২০১১ তারিখে যাত্রা শুরু হয় সংগঠনটির।
রক্তদাতাদের তথ্য সংরক্ষণ করে রাখা ও প্রয়োজনে তাঁদের রক্তদানের মাধ্যমে নিরাপদ ও স্বেচ্ছায় একটি সুস্থধারার রক্ত পরিসঞ্চালন নিশ্চিত করাই হচ্ছে এই ওয়েবসাইটটির মূল উদ্দেশ্য।
একটা স্বপ্ন নিয়েই  www.jibonbd.org এর কাজ শুরু হয়ঃ “আমরা স্বেচ্ছাসেবী রক্তদাতাদের সর্বপ্রথম সামাজিক যোগাযোগের সাইট” এই ওয়েবসাইটে রক্তদাতারা রক্তদাতা হিসাবে রেজিস্ট্রেশন করতে পারবে, এবং রক্তের প্রয়োজনে মানুষ এই ওয়েবসাইট থেকে সার্চ করে রক্তদাতা খুঁজে নিতে পারবে। সবাই সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আমরা হয়ত বাঁচাতে পারব হাজারো মুমূর্ষু রোগীকে।
“কারণ রক্তদান ঐচ্ছিক বিষয় নয়, এটি দায়িত্বের চেয়ে বেশী কিছু৷”

Jibon“জীবন” এর পথচলা:

পেশাদার রক্তদাতা পরিহার ও স্বেচ্ছায় রক্তদানকে সামাজিক আন্দোলনে রুপদান করার জন্যই ২০১১ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় পার্বত্যাঞ্চলের সর্বপ্রথম অনলাইন ব্লাড ব্যাংক Jibon“জীবন”৷
শুরুতে শুধুমাত্র ৮জন সদস্য নিয়ে যাত্রা করা সংগঠনটি আজ ৩০০ জন নিবেদিত স্বেচ্ছাসেবীর বিশাল পরিবার৷
এই পরিবার তার আন্তরিকতা ও নিষ্ঠায় আপন করে নিচ্ছে এই জনপদের সর্বসাধারণকে৷
সংগঠনটি আজ পার্বত্যাঞ্চলে বিশ্বাসের অপর নাম৷
সংগঠনের শুরুটা হয় যখন সংগঠনের পৃষ্ঠপোষক আনোয়ারুল কবিরের পিতার জন্য হঠাৎই একদিন রক্তের প্রয়োজন পরে৷
একজন অজ্ঞাতনামা স্বেচ্ছাসেবী রক্তদাতার এই নীরব ভূমিকাটির উপরই দাঁড়িয়ে আছে আজকের Jibon“জীবন”৷
সাজিদ-বিন-জাহিদ ও তার ৭জন বন্ধুকে ঘিরেই নতুন করে স্বপ্ন দেখতে শিখেছে পার্বত্যাঞ্চলের হাজারো মুমূর্ষু রোগী৷
জরুরী মুহুর্তে রক্তের প্রয়োজন হলেই রিং বেজে উঠে সংগঠনটির ২৪*৭ নিবেদিত রক্তদাতা কল সেন্টারে৷
এছাড়া বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে রক্তদানের গুরুত্ব তুলে ধরতে ও প্রয়োজনীয়তা বুঝাতে “হ্যালো ক্যাম্পাস” ক্যাম্পাস একটিভেশন কার্যক্রম পরিচালনা করছে সংগঠনটি৷ ছাত্রছাত্রীদের বিভিন্ন কর্মদক্ষতামূলক ও কর্মমূখী প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকে “হ্যালো টীম৷”
সংগঠনটি সম্পূর্ণ স্বেচ্ছাসেবী এবং অনলাইনভিত্তিক৷
সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমগুলোকে কাজে লাগিয়ে সংগঠনটি তাদের কাজ পরিচালনা করছে বিগত ৭টি বছর৷

রক্তদাতা ও রক্তগ্রহীতার মধ্যে সংযোগ স্থাপন করিয়ে দেয় সংগঠনটি৷ সম্পূর্ণ যাচাই বাছাই করে রক্তদাতাদের নিজ দায়িত্বে হাসপাতালে পৌঁছানো পর্যন্ত খবরাখবর
নেয় একান্ত আপনজন হয়ে৷
সম্পূর্ণ নিবেদিতপ্রাণ একঝাঁক তরুণের সমন্বয়ে গঠিত টীমের সার্বিক তত্বাবধানে রক্তদাতা নিবন্ধন ও রক্তদান কার্যক্রম পরিচালনা করে যাচ্ছে Jibon“জীবন”৷
রাঙামাটির বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে রয়েছে স্বতন্ত্র ইউনিট৷
অনলাইনে রক্তদান কার্যক্রম পরিচালনার পাশাপাশি বিভিন্নধরনের ব্যতিক্রমধর্মী সামাজিক সেবামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করছে সংগঠনটি৷ কখনো ছুটে যাচ্ছে বৃদ্ধাশ্রমে খুব আপনজন হয়ে কখনো বা নিজের জীবন ঝুকি নিয়ে পাহাড়ধস বা প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষদের জীবন রক্ষায়৷
আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতেও সবসময় সেবা প্রদান করে গেছে সবুজ টি-শার্ট গায়ে জড়ানো তরুন এই স্বেচ্ছাসেবীরা৷
নিজেদের পরিচিত করেছে গ্রীণ আর্মি হিসেবে৷ পাহাড়ঘেরা অঞ্চলে পাহাড়সম দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিয়েছে এই তরুনেরা৷
ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণে এরাই উদ্বুদ্ধ করছে এই জনপদের মানুষদের৷ জাগ্রত করছে মানবিক অনুভূতি৷

পার্বত্যাঞ্চলে রক্তদান নিয়ে  কাজ করে সর্বমহলে বেশ প্রশংসিত ও পরিচিত Jibon“জীবন”। তরুনদের মাঝে সামাজিক মুল্যবোধ সৃষ্টি ও মানবিক মূল্যবোধ  তৈরীতে বেশ উদ্যোমী সংগঠন Jibon“জীবন” তাদের কর্মের স্বীকৃতি পেলো জয় বাংলা ইয়ুথ অ্যাওয়ার্ড প্রাপ্তির মধ্য দিয়ে। সারাদেশের সেরা দশে নির্বাচিত হয়েছে এই সংগঠনটি।

প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য:

১) আনোয়ারুল কবির – Anwarul Kabir
২) সাজিদ-বিন-জাহিদ – Sazid Bin Zahid
৩) মোহাম্মদ অাশফাক হোসেন – Ashfaq Hossain
৪) মেহের নীগার চৌধুরী – Meher Niger
৫) গায়ত্রী চক্রবর্ত্তী – Gayatri Chakraborty
৬) তাসনিমা হক জেরীন – Tasnima Hoque Zarin
৭) ইয়া হাকিম পিয়াস – Yea Hakim Piash
৮)সব্যসাচী চাকমা – Sabyasachi Chakma

Share on Facebook Share on Twitter